ইসলামাবাদ, ১৬ মে – ক্রীড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাই-ভোল্টেজ ড্রামা বোধহয় একেই বলে! একদিকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক যখন ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো উত্তপ্ত, ঠিক তখনই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। চলতি মে মাসের শেষ সপ্তাহে আহমেদাবাদে আইসিসির মেগা বৈঠক এবং একই সময়ে কোটি টাকার টুর্নামেন্ট আইপিএলের (IPL) ফাইনালকে কেন্দ্র করে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যমে এই খবরটি আসার পর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেট ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে তুমুল তোলপাড়।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত এপ্রিলে আইসিসির পূর্বনির্ধারিত ত্রৈমাসিক বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। সেই স্থগিত হওয়া বৈঠকটিই এখন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চলতি মে মাসের শেষ সপ্তাহে, ভারতের আহমেদাবাদে।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বোর্ড প্রধানরাই মূলত এর সদস্য। তাই স্বাভাবিকভাবেই মে মাসের শেষ সপ্তাহে ভারত সফরে আসার কথা সব দেশের ক্রিকেট কর্তাদের। কাকতালীয়ভাবে, আগামী ৩০ বা ৩১ মে অনুষ্ঠিত হবে আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচ। আর এই সুযোগেই আইসিসির সব সদস্যসহ পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিকেও গ্যালারিতে বসে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করার অফিশিয়াল আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে বিসিসিআই।
মহসিন নাকভির এই আমন্ত্রণ পাওয়ার খবরটি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে। তবে তিনি যদি শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে পা রাখেন, তবে বিষয়টি শুধু চার-ছক্কার ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ, নাকভি শুধু পিসিবি প্রধানই নন, তিনি একই সাথে পাকিস্তানের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় পদে আসীন।
বর্তমানে কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা এবং তার জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনার পর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক চরম বৈরি রূপ ধারণ করেছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের মাটিতে পা রাখবেন কি না, তা নিয়ে খোদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেই বড় সংশয় রয়েছে।
গত এশিয়া কাপের পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। আইসিসির বিশেষ মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল যে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তান কেউ কারও দেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাবে না। সেই চুক্তি মেনেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সালমান আঘার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের কোনো ম্যাচ ভারতের মাটিতে রাখা হয়নি।
তার ওপর, গত এশিয়া কাপ জেতার পর পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে সরাসরি অনীহা প্রকাশ করেছিলেন ক্ষুব্ধ সূর্যকুমার যাদবরা। সেই ঘটনার পর দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের কোনো উন্নতি তো হয়ইনি, উল্টো তিক্ততা আরও বেড়েছে।
বিসিসিআই আমন্ত্রণ জানালেও কোনো দেশের বোর্ডই এখনো এই বিষয়ে অফিশিয়াল বা আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের ধারণা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মহসিন নাকভি বা পিসিবির উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তার আহমেদাবাদে সশরীরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। হয়তো পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যুক্ত হতে পারেন। তবে আইপিএল ফাইনালের জমকালো মঞ্চে শেষ মুহূর্তে কোনো চমক অপেক্ষা করছে কি না, তা দেখতে মুখিয়ে আছে ক্রিকেট দুনিয়া!