যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিএনপি’র বর্তমান কমিটিকে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ বলে কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা এবং নতুন কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুরে মিশিগানের ওয়ারেন শহরে স্পাইসি-২১ রেষ্টুরেন্টে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকরা এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও মিশিগান স্টেট বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব।
মিশিগান স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি মুজিব আহমদ মনির, মিশিগান বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাশিদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বকুল তালুকদার সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয় বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে একই পদ আঁকড়ে রয়েছেন, কোন ধরনের কাউন্সিল বা নির্বাচন ছাড়াই। বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের অভিযোগের পাহাড় ক্রমশঃ এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মিশিগান বিএনপি ভূমিকা ছিল হতাশা জনক ও প্রশ্ন বিদ্ধ। নেতৃবৃন্দ একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সাথে গোপনে হাত মেলানোর কারণে আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারেন নি। এতে করে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া এই গনমুখী সংগঠনের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশী অধ্যুষিত রাজ্য মিশিগানে বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
নেতৃবৃন্দ এবিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- স্বেচ্ছাচারিতা, দলের গঠণতন্ত্র লংঘন, সংগঠনের স্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপ, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা ও নিজেদের তল্পীবাহক কতিপয় ব্যাক্তি ছাড়া নেতাকর্মীদের না জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছে মত সিদ্ধান্ত গ্রহন ইত্যাদি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মিশিগানে হাজার-হাজার প্রবাসী বিএনপি কর্মী সমর্থক থাকা স্বত্বেও ভোট সংগ্রহ ও প্রেরণে দায়িত্বশীলরা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। দুই পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে- আমাদের প্রিয় সংগঠন বিএনপিকে রক্ষা করবো। কোনো অশুভ শক্তি যাতে দলের ক্ষতি ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে এজন্য সকল নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয় প্রায় দুই দশকেও নানা অজুহাত দেখিয়ে কোন কাউন্সিল ডাকা হয়নি। বিগত ২০২৩ সালের ৯ মে তারিখে ২ বছর মেয়াদে ৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্তমান কমিটি সিলেক্ট করে ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দলীয় নির্দেশনা থাকলেও ৩ বছরেও সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন নি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিলে বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি রাস্তার নাম করণের প্রস্তাব গৃহীত হলেও শেষে তা আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলরদের বিরোধিতার কারণে বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে সে সব আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলররা বিএনপির ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসাবে সম্মানিত হন। এতে কওে সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এবিষয়টিকে নেতৃত্বের দূর্বলতা, অদুরদর্শিতা এবং সাধারণ কর্মী সমর্থকদের সাথে পরামর্শ না করার ফল বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে মিশিগান বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মামুনুর রেজা শাহেল, ছাত্রদল এমসি কলেজের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেন খাঁন, মিশিগান স্টেট বিএনপির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক বেলাল আহমদ, ফয়জুল ইসলাম, নাজমুল হক কামাল, রেদওয়ান আহমদ রাজন, নিজাম উদ্দিন মাস্টার, জিল্লুর রহমান জিল্লু, আব্দুল কাদির, এবাদুর রহমান এবাদ, ফরিদ আহমদ ফাহিম, পারভেজ আহমদ, আবুল হাসান,আব্দুল্লাহ আল মান্না, আব্দুস সামাদ মুন্না,তাজুল ইসলাম শিপলু, স্বেচ্ছাসেবক দল মিশিগানের সভাপতি আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মুর্শেদ, শাহ জুবেদ, আব্দুস সালাম, আহমেদুর রহমান শিপার, তানজিম আহমদ, হামান আহমদ, এমাদ উদ্দিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মিশিগান বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী খুবই তুচ্ছ অজুহাত দেখিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকায় আয়োজনকারীরা তাদের কঠোর সমালোচনা করেন। সাংবাদিক সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বিএনপি নেতা আব্দুল বাসিত।
উল্লেখ্য, মিশিগান বিএনপির বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি দেওয়ান আকমল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ।
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]