ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া, হতাহতের সংখ্যা অন্তত ৩২
ইউক্রেনের মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবারের (১৪ এপ্রিল) এই হামলায় অন্তত ৫ নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী দনিপ্রোর দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার সতর্কবার্তা দেয়ার পর স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এদিন দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, ২১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি জানান, ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে দিনের বিভিন্ন সময়ে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। হামলার সময় কেউ রাস্তায় এবং কেউ গাড়ির ভেতরে থাকাকালে আহত হন। হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো এবং একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি নিকটবর্তী গ্যাস স্টেশনেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি এবং ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যায় বলে জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে।
এই হামলা ঘটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষিত অস্থায়ী ইস্টার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরপরই। পুতিন ৯ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যদিও এর আগে ইউক্রেনের একই ধরনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের মতে, এই যুদ্ধবিরতি ১১ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে ১৩ এপ্রিল রাত পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা থাকলেও, ৩২ ঘণ্টার এই সময়কালে রুশ বাহিনী ১০ হাজার ৭২১ বার তা লঙ্ঘন করেছে।
একই দিনে খারকিভ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া গ্লাইড বোমা হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনাইহুবভ। তিনি জানান, চুহুইভ জেলার পেচেনিহি বাঁধকে লক্ষ্য করে ছয়টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এটি অঞ্চলটির অন্যতম বৃহৎ জলাধার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ইউক্রেনের ১৬তম আর্মি কর্পসের তথ্য অনুযায়ী, চারটি বোমা জলকাঠামোর কাছে মাটিতে আঘাত হানে এবং দুটি পানিতে পড়ে। তবে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার সময়টি পরিকল্পিত হতে পারে, কারণ বসন্তকালীন বন্যার কারণে বর্তমানে জলাধারের পানি সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। এ সময় বাঁধটি ধ্বংস হলে ব্যাপক বন্যা ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারত। সিনিহুবভ আরও জানান, রাশিয়া খারকিভে ‘মলনিয়া’ ধরনের ড্রোন এবং ইরানের নকশাকৃত ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।



আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]